CricBengal.com | ফুটবল ডেস্ক
একসময় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্ক ছড়াত তাঁর গতি, ড্রিবলিং আর দুর্দান্ত সব আক্রমণে। গোল করা কিংবা সতীর্থকে দিয়ে গোল করানো—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। কিন্তু সেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই এখন যেন নিজের ছায়া হয়ে গেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে চলতি মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স দেখে প্রশ্ন উঠছে, এই কি সেই পুরোনো ভিনিসিয়ুস?
চেহারা বদল নিয়ে ছড়িয়েছিল ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’
বিশ্বকাপের পর মুখের কসমেটিক সার্জারি করানোর কারণে ভিনিসিয়ুসের চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। দাবি করা হয়, আসল ভিনিসিয়ুস নাকি নিখোঁজ হয়েছেন! তাঁর বিজ্ঞাপনী চুক্তি ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে একই রকম দেখতে অন্য কাউকে মাঠে নামানো হচ্ছে।
অবশ্য এসব দাবির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। তবে চলতি মৌসুমে মাঠের পারফরম্যান্সে ভিনিসিয়ুসের হতাশাজনক অবস্থা দেখে সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গোল ও অ্যাসিস্টে হতাশাজনক পরিসংখ্যান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম ১০ ম্যাচে ভিনিসিয়ুসের গোল মাত্র একটি। লা লিগার আট ম্যাচে একটি গোলের পাশাপাশি তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অন্যদিকে, চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট—কোনোটিই করতে পারেননি।
২০১৮ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর মৌসুমের শুরুতে তাঁর এমন পারফরম্যান্সকে অন্যতম হতাশাজনক হিসেবে দেখছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম।
তবে ভিনিসিয়ুসের সমস্যা শুধু গোল-অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর খেলার অন্যতম শক্তি ড্রিবলিংয়েও উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যাচ্ছে।
কমছে ড্রিবলিংয়ের কার্যকারিতা
ভিনিসিয়ুসের খেলার বড় অস্ত্র তাঁর গতি ও প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা। কিন্তু সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, ড্রিবলিংয়ে তাঁর কার্যকারিতা ক্রমেই কমছে।
প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে প্রতি ৯০ মিনিটে গড়ে ৮.৪২টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা করতেন ভিনিসিয়ুস। এর মধ্যে সফল হতেন ৩.৬৭ বার।
পরবর্তী মৌসুমগুলোতে তাঁর পরিসংখ্যান ছিল নিম্নরূপ:
- ২০২৩-২৪: প্রতি ৯০ মিনিটে ৭.৩৭টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা, সফল ৩.১৫টি।
- ২০২৪-২৫: ৬.৭০টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা, সফল ২.৮২টি।
- ২০২৫-২৬: ৫.৫১টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা, সফল ২.৫৩টি।
- ২০২৬-২৭: ৪.৩৪টি ড্রিবলিংয়ের চেষ্টা, সফল ১.৮৬টি।
এই পরিসংখ্যান তাঁর আক্রমণাত্মক খেলায় ধারাবাহিক অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারছেন না
ভিনিসিয়ুসের আরেকটি বড় সমস্যা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৫টি শট থেকে তাঁর গোল মাত্র একটি।
অথচ এসব সুযোগের প্রত্যাশিত গোলের হিসাব বা এক্সজি (xG) ছিল ৩.১৪। অর্থাৎ সুযোগের মান বিবেচনায় তাঁর আরও বেশি গোল করার কথা ছিল।
২৫টি শটে মাত্র একটি গোল করায় তাঁর শট থেকে গোল পাওয়ার হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ শতাংশে। এটি তাঁর মতো আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ের জন্য হতাশাজনক পরিসংখ্যান।
কোচের আস্থা কত দিন থাকবে?
ভিনিসিয়ুসের এমন পারফরম্যান্সে রিয়াল মাদ্রিদের একাদশে জায়গা ধরে রাখার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা ভালো পারফরম্যান্স করলে কোচের সামনে বিকল্পও বাড়বে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ভিনিসিয়ুসকে তুলে নেওয়ার পর তাঁর পরিবর্তে নামা এনদ্রিক গোল ও অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়েন। ফলে দলের আক্রমণভাগে বিকল্প খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ ছাড়া ইয়ান দিওমান্দের মতো তরুণ উইঙ্গারের পারফরম্যান্সও ভিনিসিয়ুসের ওপর চাপ তৈরি করছে। দিওমান্দে দুই উইংয়েই খেলতে পারেন এবং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞা বা অনুপস্থিতির সুযোগে অন্যরা নিজেদের প্রমাণ করতে পারলে একাদশে জায়গা ফিরে পেতে তাঁকে আরও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
পুরোনো ভিনিসিয়ুসকে কি ফিরিয়ে আনতে পারবেন তিনি নিজেই?
গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিয়ুস ২২টি গোল করার পাশাপাশি ১০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে তাঁর পারফরম্যান্স সেই মান থেকে অনেকটাই দূরে।
গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত উইঙ্গারে পরিণত করেছে। তাই সাম্প্রতিক ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য তাঁর রয়েছে বলেই আশা করবেন সমর্থকেরা।
তবে সেই প্রত্যাবর্তনের জন্য তাঁকে দ্রুত নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হবে, সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং আক্রমণে আগের মতো কার্যকর হয়ে উঠতে হবে।
এই ভিনিসিয়ুস কি আবারও পুরোনো ছন্দে ফিরবেন, নাকি রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়বে? সেই উত্তর দেবে মাঠের পারফরম্যান্সই।
সূত্র: প্রথম আলো
প্রকাশক: CricBengal.com


