CricBengal.com | ফুটবল ডেস্ক
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে সমালোচনা করে শাস্তির মুখে পড়েছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান, ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো ও দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসান। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হোসামকে তিন ম্যাচ, জিকোকে পাঁচ ম্যাচ এবং ইব্রাহিমকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইএফএ জানায়, নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শাস্তির আইনি দিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সংস্থাটি।
আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হার মিসরের
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি তারা।
ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মিসরীয় শিবির। তাদের দাবি, একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল তাদের।
রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কোচ
ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, রেফারিংয়ের কারণে তার দল অন্যায়ের শিকার হয়েছে।
অন্যদিকে, ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআরের হস্তক্ষেপে মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল করা হয়। এসব সিদ্ধান্ত ঘিরে ম্যাচের পর উত্তেজনা আরও বাড়ে।
নিষেধাজ্ঞায় অনিশ্চয়তা মিসরের পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে
এই শাস্তির কারণে মিসরের আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কোচিং ও দল পরিচালনায় প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসানের অনুপস্থিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দলের প্রথম ম্যাচেও তাদের পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনুযায়ী, মোস্তফা জিকোকেও জুন পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।
রেফারিদের পাশে ফিফার রেফারিবিষয়ক প্রধান
রেফারিং নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে ফিফার রেফারিবিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার মতে, রেফারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কখনো কখনো তাদের এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
মিসরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখন ফিফার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে। আপিল করা হলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


