CricBengal.com | স্পোর্টস ডেস্ক
ফখর জামানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর আরাফাত মিনহাসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। শনিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান করে স্বাগতিকরা।
এই জয়ে ২০০৮ সালের পর আবারও ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল পাকিস্তান। ফাইনালে ৯৯ বলে ১২৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন ফখর জামান। শেষদিকে আরাফাত মিনহাসের ৩১ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় সংগ্রহ
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। দলের হয়ে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন কামিন্দু মেন্ডিস। ১২৮ বলে ১৩১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও দুটি ছক্কা।
এটি ওয়ানডে ক্রিকেটে কামিন্দুর প্রথম সেঞ্চুরি। তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন পাভান রথনায়েকে। ৬৫ বলে ৭৭ রান করেন এই ব্যাটার। তৃতীয় উইকেটে দুজনের ১৪৬ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
পাকিস্তানের বোলাররা শেষ দিকে নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার রান আরও বাড়ানোর সুযোগ কমিয়ে দেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি দুটি উইকেট নেন। হারিস রউফ ও নাসিম শাহও দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
শুরুতেই ধাক্কা, ফখর-সাদের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান
৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৪ রানের মধ্যে দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও বাবর আজমকে হারায় স্বাগতিকরা। বাবর পাঁচ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি।
এরপর ইনিংসের হাল ধরেন ফখর জামান ও তরুণ ব্যাটার সাদ বেগ। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। সাদ বেগ ৭৫ বলে ৭৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার।
অন্যদিকে ফখর খেলেন ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ১১টি চার ও ছয়টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি পাকিস্তানের জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। ফখরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি ১২তম সেঞ্চুরি।
তবে ফখর ও সাদ বেগ ফিরে যাওয়ার পর আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান। একপর্যায়ে ২৩০ রানে ৫ উইকেট হারায় দলটি। তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় শ্রীলঙ্কার সামনে।
শেষদিকে আরাফাত মিনহাসের ঝড়
পাকিস্তানের জয়ের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরাফাত মিনহাস। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রান করেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা।
হাসান নওয়াজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ৪৫ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করেন। দুজনের কার্যকর ব্যাটিংয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যায় পাকিস্তান।
শেষ দিকে আসিথা ফার্নান্দো পরপর দুই বলে আরাফাত মিনহাস ও ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় পূর্ণ করেন।
১৮ বছর পর ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা
এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল পাকিস্তান। এর আগে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কিটপ্লি কাপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
ফাইনালে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ফখর জামানের সেঞ্চুরি, সাদ বেগের ৭৪ রান এবং আরাফাত মিনহাসের দ্রুতগতির ৬১ রানের ইনিংস মিলেই শিরোপা নিশ্চিত করে।
CricBengal Analysis: ফাইনালে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। বাবর আজমের দ্রুত বিদায়ের পর ফখর ও সাদ বেগের জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। এরপর মাঝের ওভারে আবারও চাপ তৈরি হলেও আরাফাত মিনহাসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরি ও রথনায়েকের ৭৭ রানও শ্রীলঙ্কাকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- শ্রীলঙ্কা: ৩২৫/৮ (৫০ ওভার)
- পাকিস্তান: ৩৩১/৭ (৪৮.৩ ওভার)
- ফলাফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী
- ফখর জামান: ১২৭ (৯৯ বল)
- সাদ বেগ: ৭৪ (৭৫ বল)
- আরাফাত মিনহাস: ৬১ (৩১ বল)
- কামিন্দু মেন্ডিস: ১৩১ (১২৮ বল)
সূত্র: আইসিসি, রয়টার্স, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড
ICC-এর ম্যাচ রিপোর্ট · Reuters-এর প্রতিবেদন · পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের স্কোরকার্ড
প্রকাশক: CricBengal.com


