CricBengal.com | Sports Desk
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ভবিষ্যৎ সূচি নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন টুর্নামেন্টটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ললিত মোদি। তাঁর মতে, আইপিএল আয়োজনের জন্য শুধু এপ্রিল-মে মাসের ওপর নির্ভর না করে অক্টোবর থেকে পরের বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত সূচি নির্ধারণ করা উচিত। এ ক্ষেত্রে জানুয়ারিতে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রস্তাবও সামনে এনেছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে মোদি আইপিএলের ম্যাচসংখ্যা বাড়িয়ে ৯৪ করার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম, আবহাওয়া এবং সম্প্রচারস্বত্বের বাণিজ্যিক দিক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে নতুন ক্রিকেট ক্যালেন্ডার তৈরির ক্ষেত্রে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
৯৪ ম্যাচের আইপিএলের পরিকল্পনা
২০০৮ সালে আট দল নিয়ে শুরু হয়েছিল আইপিএল। তখন টুর্নামেন্টে ছিল ৫৯টি ম্যাচ। বর্তমানে দল বেড়ে হয়েছে ১০টি। মোদির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১০ দলের পূর্ণাঙ্গ হোম-অ্যাওয়ে লিগ আয়োজন করতে হলে প্রতিটি দলকে অন্য নয়টি দলের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ও প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে হবে। এতে লিগ পর্বে ম্যাচ হবে ৯০টি। এর সঙ্গে চারটি প্লে-অফ যোগ হলে মোট ম্যাচ দাঁড়াবে ৯৪টি।
মোদির মতে, বর্তমান সময়সীমার মধ্যে এতগুলো ম্যাচ আয়োজন করতে গেলে খেলোয়াড়, দর্শক এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু ম্যাচের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, পুরো মৌসুমের সময়সূচিও নতুনভাবে সাজাতে হবে।
জানুয়ারিতে শুরু করার প্রস্তাব
আইপিএলের প্রচলিত এপ্রিল-মে সময়সূচির পরিবর্তে জানুয়ারিতে টুর্নামেন্ট শুরু করার ধারণা দিয়েছেন মোদি। তবে তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারিই একমাত্র বিকল্প নয়। তাঁর বৃহত্তর প্রস্তাব হলো অক্টোবর থেকে পরের বছরের এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সূচি খুঁজে বের করা।
এ জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ সময়, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট, ভেন্যু, ভ্রমণ এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ব্যস্ততা বিবেচনায় নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ সিরিজকে কয়েকটি ফাঁকা দিনের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন মোদি।
তাঁর মতে, নতুন ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আইপিএলের জন্য কার্যকর সময় বের করা।
গরম ও শিশিরের বিষয়েও সতর্কতা
আইপিএলের বর্তমান সময়সূচিতে গরমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, সন্ধ্যায় ম্যাচ আয়োজন করলেই গরম ও আর্দ্রতার সমস্যা পুরোপুরি দূর হয় না। ক্রিকেটারদের ম্যাচের আগে অনুশীলন করতে হয়। দর্শকদের স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে হয়, আর নিরাপত্তাকর্মী, মাঠকর্মী ও সম্প্রচারকর্মীদের দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করতে হয়।
তাই অক্টোবর-এপ্রিল সময়সীমার মধ্যে ভেন্যু ও আবহাওয়া বিবেচনা করে ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে তিনি।
তবে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে শিশিরের প্রভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোদি স্বীকার করেছেন, শিশিরের কারণে টসের গুরুত্ব বেড়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিটি মাঠের তাপমাত্রা, শিশির, বৃষ্টি, কুয়াশা ও বায়ুমানের তথ্য বিশ্লেষণ করে সূচি তৈরি করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বাণিজ্যিক স্বার্থ
আইপিএলের সময় পরিবর্তনের প্রস্তাবের পেছনে বাণিজ্যিক বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মোদি। তাঁর মূল্যায়ন, আগামী সম্প্রচারস্বত্ব চক্রে দ্বিপক্ষীয় ও আইসিসি ইভেন্টের সম্প্রচারস্বত্বের আয় চাপে পড়তে পারে। অন্যদিকে আইপিএল বিসিসিআইয়ের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক সম্পদ।
তবে সূচি পরিবর্তন মানেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাদ দেওয়া বা সম্প্রচারস্বত্ব এক করে ফেলা নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। বরং আইপিএল থেকে সম্ভাব্য আয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্ষতি, অন্যান্য বোর্ডের স্বার্থ এবং খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা—সবকিছু হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন।
দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
৯৪ ম্যাচের দীর্ঘ আইপিএলে দর্শকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি মোদি। তাঁর মতে, টুর্নামেন্ট দীর্ঘ করা আর প্রতিদিন দর্শকদের সামনে অতিরিক্ত ম্যাচ তুলে ধরা এক বিষয় নয়। বরং সপ্তাহভিত্তিক পরিকল্পনা, ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত বিরতি এবং প্রতিটি দলের জন্য নির্দিষ্ট ছন্দ তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, সমর্থকদের প্রতিটি ম্যাচ দেখতে বাধ্য না করেও পুরো মৌসুমজুড়ে নিজেদের দলকে অনুসরণ করার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
জয় শাহের সহযোগিতা চান মোদি
নতুন সূচি বাস্তবায়নের জন্য বিসিসিআইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে মনে করেন আইপিএলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এ ক্ষেত্রে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
মোদির মতে, অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আন্তর্জাতিক সমঝোতা তৈরি করতে হবে। বিদেশি ক্রিকেটার সরবরাহকারী দেশগুলোরও যেন এই ব্যবস্থায় সমর্থন করার যথেষ্ট কারণ থাকে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
CricBengal Analysis: ললিত মোদির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইপিএলের প্রচলিত সূচি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সময়বণ্টন এবং খেলোয়াড়দের বিশ্রামের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এটি এখন পর্যন্ত তাঁর প্রস্তাব ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। বিসিসিআই বা আইসিসির পক্ষ থেকে নতুন সূচি চূড়ান্ত হওয়ার কোনো তথ্য এই সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়নি।
সূত্র: Cricbuzz-এর সঙ্গে ললিত মোদির সাক্ষাৎকার
প্রকাশক: CricBengal.com


