CricBengal.com | Sports Desk
অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সে তাঁর এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে ক্রিকেট থেকে এখনই সরে যাচ্ছেন না তিনি। Melbourne Stars-এর হয়ে Big Bash League (BBL)-এ খেলা চালিয়ে যাবেন এই মারকুটে ব্যাটার।
২ নভেম্বর সোমবার রাতে The Final Word পডকাস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ম্যাক্সওয়েল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ার হয়ে চার দিনের ও ৫০ ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে T20 ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর খেলা অব্যাহত থাকবে।
২৮৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচের ক্যারিয়ার
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ২৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। এর মধ্যে রয়েছে ৭টি টেস্ট, ১৪৯টি ওয়ানডে এবং ১৩০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক। সব মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ৭,২২৬ রান ও ১৩৬ উইকেট।
টেস্ট ক্রিকেটে সাত ম্যাচে ৩৩৯ রান করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে রাঁচি টেস্টে পেয়েছিলেন নিজের একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই তাঁর পরিচিতি সবচেয়ে বেশি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা এবং প্রয়োজনের সময় কার্যকর স্পিন-সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য, স্মরণীয় ২০১
ম্যাক্সওয়েল অস্ট্রেলিয়ার ২০১৫ ও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; ফাইনালে জয়সূচক রানটি আসে তাঁর ব্যাট থেকেই।
তবে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাঁর অপরাজিত ২০১ রানের ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যখন ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে, তখন একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ম্যাক্সওয়েল। ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রান করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। শারীরিক অস্বস্তি ও ক্র্যাম্পের মধ্যেও তাঁর সেই লড়াই ছিল অসাধারণ।
একই বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি—ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতরানের নজির।
T20 ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিতি
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩০ ম্যাচে ২,৮৯৭ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৪২। এই ফরম্যাটে তাঁর সেঞ্চুরি পাঁচটি, যা ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যার রেকর্ড।
২০২৫ সালের জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। এরপরও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলছিলেন। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে থাকল দেশের হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। সেই ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেট নিলেও ব্যাট করার সুযোগ পাননি তিনি।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে অবসরের জন্য তাঁর ওপর চাপ ছিল না। ভবিষ্যৎ দল গঠন, তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ এবং নিজের শারীরিক সক্ষমতা—সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২০২৮ সালের অলিম্পিকসহ ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সাদা বলের প্রতিযোগিতা রয়েছে। নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তিনি বুঝতে পেরেছেন। নিজের ফিটনেসের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
নিজের মাঠে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার ক্ষীণ আশা তাঁর ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বুঝে সেই সম্ভাবনা না থাকলেও সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়েছেন তিনি।
CricBengal Analysis: অস্ট্রেলিয়ার জন্য কী রেখে গেলেন ম্যাক্সওয়েল?
ম্যাক্সওয়েলের অবদান কেবল রান ও উইকেটের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ম্যাচের গতিপথ দ্রুত বদলে দেওয়ার সামর্থ্য, ব্যাটিংয়ের নতুন মাত্রা এবং চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা করেছে।
বিশেষ করে ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ২০১ রানের ইনিংস দেখিয়েছে, একজন ব্যাটার একাই কীভাবে প্রায় অসম্ভব পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারেন। তাঁর অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে এমন আক্রমণাত্মক অলরাউন্ডারের ভূমিকা কে নেবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও Melbourne Stars-এর হয়ে BBL-এ তাঁকে দেখা যাবে। ফলে ক্রিকেটপ্রেমীরা এখনো তাঁর ব্যাটিং উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
প্রকাশক: CricBengal.com/BH


