CricBengal.com | ক্রিকেট ডেস্ক
ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন সঞ্জু স্যামসন। শেষ দিকে নীতিশ কুমার রেড্ডি নন, নামান ধীরের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে রোমাঞ্চকর জয় পেল ভারত। ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য ২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, হ্যাগলি ওভালে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। স্বাগতিকদের করা ২২৫ রানের জবাবে ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩০ রান তুলে নেয় সফরকারীরা।
ভারতের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান সঞ্জু স্যামসনের। মাত্র ৩৩ বলে ৬৭ রান করেন এই ওপেনার। শেষ দিকে নামান ধীর ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও খেলেন ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস।
নিউজিল্যান্ডের ২২৫ রান, ফিলিপসের ঝোড়ো ব্যাটিং
টসের পর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে নিউজিল্যান্ড। ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলেন। ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে স্বাগতিকরা।
সেইফার্টকে ফিরিয়ে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মায়াঙ্ক যাদব। পরে অক্ষর প্যাটেলের বলে আউট হন ফিন অ্যালেন। তবে ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস ও বেভন জ্যাকবসের ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
গ্লেন ফিলিপস অপরাজিত ৮২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক শটের দারুণ প্রদর্শনী। বেভন জ্যাকবসও দ্রুত রান তুলে ভারতীয় বোলারদের চাপে রাখেন। শেষ পাঁচ ওভারে ৬৭ রান তুলে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২৫/৪।
ভারতের হয়ে মায়াঙ্ক যাদব একটি উইকেট নেন। তবে পাঁচ বোলারই ৪০ রানের বেশি খরচ করায় বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা।
পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন স্যামসন
২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ চালায় ভারত। অভিষেক শর্মা প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের জানান দেন। তবে ইনিংসের আসল ঝড় তোলেন সঞ্জু স্যামসন।
লকি ফার্গুসন ও অ্যাডাম মিলনের বলে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে এলোমেলো করে দেন তিনি। অভিষেক শর্মাও যোগ দেন সেই আক্রমণে।
পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারে ৯৩ রান তুলে নেয় ভারত। স্যামসন ও অভিষেকের জুটিতে তখন বড় জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
স্যামসন ৩৩ বলে ৬৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অন্যদিকে অভিষেক শর্মা ১২ বলে ২৯ রান করেন। তবে তাঁদের বিদায়ের পর ম্যাচে ফিরে আসে নিউজিল্যান্ড।
স্পিনে চাপে ভারত, ঘুরে দাঁড়ান অক্ষর-আইয়ার
পাওয়ারপ্লের পর মাইকেল ব্রেসওয়েল ও মিচেল স্যান্টনারের স্পিনে চাপে পড়ে ভারত। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হারায় সফরকারীরা।
স্যামসনের পর তিলক ভার্মা, ইশান কিষানও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ভারতের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে।
সেই পরিস্থিতিতে অক্ষর প্যাটেল ও শ্রেয়াস আইয়ার দলের হাল ধরেন। দুজনের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভারতকে আবারও লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়। অক্ষর ১৪ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও আইয়ার লড়াই চালিয়ে যান।
আইয়ারের সঙ্গে যোগ দেন নামান ধীর। দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার ভারতের হাতে চলে আসে।
শেষ ওভারে ধীরের ঝড়, ভারতের স্মরণীয় জয়
শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন নামান ধীর। ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি ও ছক্কার কার্যকর ব্যবহার করেন তিনি।
শেষ ওভারে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন ধীর। তাঁর সাহসী ব্যাটিংয়ে ১৯.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাইকেল ব্রেসওয়েল ২টি উইকেট নেন। তবে বড় সংগ্রহ করেও বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের ভুলে জয় তুলে নিতে পারেনি স্বাগতিকরা।
এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার নতুন নজিরও গড়ল দলটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ২২৫/৪, ২০ ওভার
গ্লেন ফিলিপস ৮২*, ফিন অ্যালেন ৪৫; মায়াঙ্ক যাদব ১/৪০।
ভারত: ২৩০/৬, ১৯.৪ ওভার
সঞ্জু স্যামসন ৬৭, নামান ধীর ৪২*, শ্রেয়াস আইয়ার ৪২; মাইকেল ব্রেসওয়েল ২/৩৯।
ফলাফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী।
CricBengal.com | ক্রিকেটের সব খবর, বিশ্লেষণ ও লাইভ আপডেট জানতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।


