CricBengal.com | Sports Desk
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেই দেশের হয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে এটি ছিল স্যান্টনারের ১৪৩তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি ছিল ইশ সোধির দখলে। ১৪২ ম্যাচ খেলে এত দিন তালিকার শীর্ষে ছিলেন এই লেগ স্পিনার। এবার তাঁকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করলেন স্যান্টনার।
ইশ সোধিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে স্যান্টনার
২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল স্যান্টনারের। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলেছেন তিনি। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই অবদান রেখে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন এই অলরাউন্ডার।
ভারতের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ম্যাচসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩-এ। ফলে ১৪২ ম্যাচ খেলা ইশ সোধিকে পেছনে ফেলে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার হয়ে যান স্যান্টনার।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ
নিউজিল্যান্ডের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের তালিকায় প্রথম পাঁচটি স্থান হলো—
| ক্রিকেটার | ম্যাচ |
|---|---|
| মিচেল স্যান্টনার | ১৪৩ |
| ইশ সোধি | ১৪২ |
| টিম সাউদি | ১২৬ |
| মার্টিন গাপটিল | ১২২ |
| ড্যারিল মিচেল | ১০৯ |
এই তালিকায় স্যান্টনারের শীর্ষে উঠে আসা তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।
ব্যাটে-বলে স্যান্টনারের পরিসংখ্যান
১৪৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্যান্টনার ব্যাট হাতে করেছেন ১,১১৭ রান। তাঁর ব্যাটিং গড় ২০.৩০ এবং সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ অপরাজিত ৭৭ রান।
বল হাতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ১৫১টি উইকেট। বোলিং গড় ২৩.০৯ এবং সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ১১ রানে ৪ উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই অবদান রাখার কারণেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
১৫০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন
ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড গড়েছিলেন স্যান্টনার। ওই ম্যাচে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
এর মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় বোলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন স্যান্টনার। চতুর্থ ম্যাচে তাঁর শিকার ছিলেন অক্ষর প্যাটেল ও নীতিশ কুমার রেড্ডি।
তবে পঞ্চম ম্যাচে রেকর্ড গড়লেও বল হাতে উইকেট পাননি তিনি। নিজের চার ওভারে ৩৯ রান খরচ করেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।
রেকর্ডের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয়
স্যান্টনারের ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিন ভারতের বিপক্ষে সাত উইকেটে জয় পায় নিউজিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ১৯১ রান তোলে। জবাবে টিম সিফার্ট ও গ্লেন ফিলিপসের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ১৮ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ভারত। শেষ দুই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয় পেলেও পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জেতে ভারত।
CricBengal Analysis
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলে যাওয়া সহজ নয়। দ্রুত বদলে যাওয়া এই ফরম্যাটে ধারাবাহিকভাবে জায়গা ধরে রাখতে হলে দক্ষতা, ফিটনেস ও দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা জরুরি।
স্যান্টনারের ১৪৩টি ম্যাচের মাইলফলক তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান ও ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি। শুধু ম্যাচসংখ্যার রেকর্ড নয়, ১৫১ উইকেট ও এক হাজারের বেশি রানও নিউজিল্যান্ডের হয়ে তাঁর অলরাউন্ড ভূমিকার পরিচয় বহন করে।
সূত্র: IANS, Times of India, Zee News
Times of India · Zee News · IANS-এর প্রতিবেদন
প্রকাশক: CricBengal.com


