CricBengal.com | Sports Desk
২০০৮ সালের প্রথম আসরের পর থেকে পাকিস্তানের হয়ে খেলা কোনো ক্রিকেটারকে আর আইপিএলে দেখা যায়নি। ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।
৩৪ বছর বয়সি আমির সম্প্রতি আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের ড্রাফটে নিজের নাম নিবন্ধন করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে সেই ড্রাফট। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তানি পরিচয়ের পরিবর্তে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন তিনি। একইভাবে আইপিএলের নিলামেও নাম লেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে এই বাঁহাতি পেসারের।
তবে আইপিএলে তাঁর খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। নিলামে অংশগ্রহণের নিয়ম পূরণ করার পাশাপাশি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে তাঁকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখাতে হবে।
কীভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেলেন আমির?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের নাগরিক নার্জিস খানকে বিয়ে করার পর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন আমির। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রিটিশ পাসপোর্ট হাতে পান তিনি।
এর আগে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫৯টি ম্যাচ খেলেছেন এই পেসার। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগও তৈরি হয়েছে। দ্য হান্ড্রেডের দল ট্রেন্ট রকেটস তাঁকে স্কোয়াডে নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন আইপিএলে খেলতে চাইলে তাঁকে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ফলে নাগরিকত্বের বিষয়টি আলোচনায় এলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর আইপিএল-ভাগ্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নিয়ম এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।
আজহার মাহমুদের নজির
আইপিএলের ইতিহাসে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের খেলার নজির একেবারে নেই, এমন নয়। ২০১২ সালে আজহার মাহমুদ আইপিএলে খেলেছিলেন। তবে তিনি আগেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টি আলাদা ছিল।
এই নজিরের কারণেই আমিরের সম্ভাব্য আইপিএল-অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অতীতের উদাহরণ থাকলেই আমিরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে যায় না।
বিতর্কিত অতীতও আলোচনায়
মোহাম্মদ আমিরের ক্রিকেটীয় প্রতিভা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তাঁর অতীত ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। ২০১০ সালের স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পর দোষ স্বীকার করেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
এ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর কিছু মন্তব্য ও মাঠের আচরণ নিয়েও অতীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পহেলগাঁও হামলার পর তাঁর কিছু অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় আইপিএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আইপিএলে দেখা যাবে কি আমিরকে?
সব মিলিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ফলে আমিরের সামনে আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নিলামে নাম নিবন্ধন, বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে যোগ্যতা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির আগ্রহ-প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৮ সালের পর পাকিস্তানের হয়ে খেলা কোনো ক্রিকেটারকে আইপিএলে দেখা যায়নি। এবার আমিরের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর জন্য।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
প্রকাশক: CricBengal.com


