Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ব্যালন ডি’অর ২০২৬: ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক | CricBengal.com

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি পেলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর এই পুরস্কার ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে আনলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে পুরস্কারটি জিতলেন তিনি।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বসেছিল এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। পুরস্কারের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইংল্যান্ডের রাজধানীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পুরুষ ও নারী ফুটবলের সেরা পারফরমারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন স্বীকৃতি। পুরুষদের বিভাগে কেইনের পর দ্বিতীয় হন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান পান স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।

অসাধারণ মৌসুমের স্বীকৃতি কেইনের

২০২৫–২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক গোল করার পুরস্কার হিসেবেই কেইনের হাতে উঠেছে ব্যালন ডি’অর। UEFA-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৭৩। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে জার্মান ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য এবং গোল করার দক্ষতা তাঁকে এই স্বীকৃতির অন্যতম দাবিদার করে তোলে।

বুন্দেসলিগায় টানা তৃতীয় মৌসুমের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতা হন কেইন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য; প্রতিযোগিতাটিতে ১৪টি গোল করেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখ সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও ইউরোপীয় মঞ্চে শিরোপা জিততে পারেনি। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে কেইনের ধারাবাহিকতা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ব্যালন ডি’অরের পাশাপাশি পুরুষদের বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও জিতেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ফলে একই অনুষ্ঠানে দুটি বড় স্বীকৃতি নিয়ে মৌসুমের ব্যক্তিগত সাফল্যকে আরও স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।

এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে পেছনে ফেললেন কেইন

এবারের পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামাল ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটে তাঁদের পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেন কেইন।

রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপ্পে দ্বিতীয় হন। বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইয়ামাল পান তৃতীয় স্থান। চতুর্থ হন রদ্রি এবং পঞ্চম স্থানে থাকেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

এই ফলাফল আবারও দেখিয়েছে, ব্যালন ডি’অরের মতো ব্যক্তিগত পুরস্কারে শুধু তারকাখ্যাতি নয়, বিবেচনায় আসে নির্ধারিত মূল্যায়নপর্বের পারফরম্যান্সও। গোল, দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠে খেলোয়াড়ের প্রভাব—সব মিলিয়েই তৈরি হয় চূড়ান্ত মূল্যায়ন।

প্রথম ইংলিশ বিজয়ী মাইকেল ওয়েনের ২৫ বছর পর

ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে ব্যালন ডি’অরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ২০০১ সালে লিভারপুলের হয়ে খেলার সময় মাইকেল ওয়েন এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় কোনো ইংলিশ ফুটবলার পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি।

কেইনের জয় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব এবং বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোল করার ধারাবাহিকতা এই অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

কেইনের ক্যারিয়ার অবশ্য এক দিনে এই উচ্চতায় পৌঁছায়নি। শুরুর দিকে বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলতে হয়েছে তাঁকে। ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় নিজের ক্যারিয়ারের ওঠানামা এবং যাঁরা তাঁকে সহায়তা করেছেন, তাঁদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নারী বিভাগে তৃতীয়বারের মতো আলেক্সিয়া পুতেয়াস

নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের মিডফিল্ডার আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় নারী ব্যালন ডি’অর। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালেও পুরস্কারটি জিতেছিলেন তিনি।

বার্সেলোনা ও লন্ডন সিটি লায়নেসেসের সঙ্গে যুক্ত পুতেয়াসের এই সাফল্য তাঁকে নারী ফুটবলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। নারী বিভাগের সেরা দশে দ্বিতীয় হন বার্সেলোনার এওয়া পাজর এবং তৃতীয় হন খাদিজা শ।

অন্যান্য পুরস্কারেও ছিল তারকাদের সাফল্য

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরে পুরুষদের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। নারী বিভাগের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন ভিকি লোপেজ।

পুরুষদের সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন উনাই সিমন এবং নারী বিভাগের পুরস্কার জিতেছেন কাটা কোল। স্পেন জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পুরুষদের সেরা কোচ নির্বাচিত হন। নারী বিভাগের সেরা কোচের পুরস্কার পেয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ।

ক্লাব পর্যায়ে পুরুষদের বর্ষসেরা ক্লাব হয়েছে প্যারিস সাঁ-জার্মেই (পিএসজি)। নারী বিভাগের সেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে বার্সেলোনা। পুরুষদের বর্ষসেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও গেছে কেইনের হাতে, আর নারী বিভাগের এই পুরস্কার পেয়েছেন মেক্সিকোর চার্লিন কোরাল।

মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সক্রেটিস পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা।

ওয়েবসাইটের ভুল প্রকাশনা ঘিরে বিতর্ক

অনুষ্ঠানের আগে ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে একটি ভুল প্রকাশনাকে ঘিরে অনলাইনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালকে বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করা পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় অনেকে ফলাফল আগাম ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা করেন।

পরে প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। আয়োজকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিজয়ীদের জন্য আগে থেকে তৈরি করা লেখা ভুলবশত প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ওই ঘটনাকে চূড়ান্ত ফলাফল ফাঁসের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার ভিত্তি ছিল না। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ফলাফলে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জেতেন কেইন, আর নারী বিভাগের পুরস্কার পান পুতেয়াস।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকল। ব্যক্তিগত গোলের ধারাবাহিকতা, দলের হয়ে সাফল্য এবং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতিগুলোর একটি অর্জন—সবকিছু মিলিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়কের এই জয় ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিল।

তথ্যসূত্র: UEFA, Reuters ও The Guardian।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles