স্পোর্টস ডেস্ক | CricBengal.com
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে তর্কের সময় মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনায় ব্রাজিলের ক্রীড়া আদালত তাঁকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর সঙ্গে আগে পাওয়া হলুদ কার্ডের কারণে একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হওয়ায় সান্তোসের পরবর্তী তিনটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের হয়ে খেলা নেইমার গত শনিবার বাহিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় মুখের সামনে হাত রাখেন তিনি। পরে ম্যাচের রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখান। ঘটনার পর বিষয়টি ব্রাজিলের সুপিরিয়র কোর্ট অব স্পোর্টস জাস্টিসের (STJD) শৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটিতে গড়ায়। ২৮ অক্টোবরের শুনানিতে নেইমারকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
কী ঘটেছিল বাহিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে?
সান্তোস ও বাহিয়ার ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। তবে ম্যাচের ফলের বাইরেও আলোচনায় আসে নেইমার ও বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের মধ্যকার বিবাদ।
ঘটনার সময় নেইমার মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। ব্রাজিলের ফুটবলে এই আচরণ নিয়ে বিশেষ শৃঙ্খলাবিধি রয়েছে, যা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নামের সঙ্গে পরিচিত। মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিবাদের সময় মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনা যাতে তদন্ত ও শাস্তির আওতায় আনা যায়, সে উদ্দেশ্যে এই প্রোটোকল ব্যবহৃত হয়।
রেফারির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, লাল কার্ড দেখার পর নেইমার প্রতিপক্ষের বেঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁর সতীর্থদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। এই আচরণও শৃঙ্খলাবিষয়ক শুনানিতে বিবেচনায় আসে।
কেন এই নিয়মকে ‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র প্রোটোকল’ বলা হয়?
ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আগে অভিযোগ করেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময় জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলেন এবং তাঁকে বর্ণবাদী অপমান করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
এ ধরনের ঘটনার পর মাঠে খেলোয়াড়দের কথোপকথনের সময় মুখ ঢেকে রাখার আচরণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু হয়। কারণ, মুখ ঢেকে কথা বললে কী বলা হচ্ছে, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। এর ফলে সম্ভাব্য বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা অপমানজনক মন্তব্যের তদন্ত জটিল হতে পারে।
নেইমারের ঘটনায় আদালতের বিবেচ্য বিষয় ছিল মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রোটোকল লঙ্ঘন। তবে এই শাস্তির অর্থ এই নয় যে নেইমারকে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তিটি প্রোটোকল ভঙ্গের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়েছে।
নেইমার কত ম্যাচ খেলতে পারবেন না?
এই সিদ্ধান্তের কারণে নেইমারের অনুপস্থিতি সান্তোসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি আগে থেকেই হলুদ কার্ড জমার কারণে ২৮ অক্টোবর পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ ছিলেন। মুখ ঢেকে কথা বলার ঘটনার জন্য পাওয়া দুই ম্যাচের শাস্তি তার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সান্তোসের পরবর্তী তিনটি ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২৮ অক্টোবর: পালমেইরাসের বিপক্ষে ম্যাচ
- ২ নভেম্বর: রেড বুল ব্রাগান্টিনোর বিপক্ষে ম্যাচ
- ১৮ নভেম্বর: কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তি বহাল থাকলে নেইমার ২২ নভেম্বর গ্রেমিওর বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন। তবে ক্লাব বা খেলোয়াড় আপিল করতে পারেন বলে এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী পরিস্থিতি নজরে রাখতে হবে।
নেইমারের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে?
শুনানিতে নেইমারের আইনজীবী যুক্তি দেন, মুখ ঢাকার ঘটনাটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল বন্ধুত্বপূর্ণ বা ঠাট্টার পরিবেশে; প্রতিপক্ষকে অপমান করা বা কোনো মন্তব্য আড়াল করার উদ্দেশ্যে নেইমার মুখ ঢাকেননি।
তবে আদালতের সংশ্লিষ্ট পক্ষ এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হয়নি। তাদের বিবেচনায়, প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলার আচরণ প্রোটোকল লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে। শেষ পর্যন্ত শৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত দেয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমার ও সান্তোস এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রাখেন। আপিল করা হলে শাস্তির পরবর্তী অবস্থা বদলাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
সান্তোসের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নিষেধাজ্ঞা?
মৌসুমের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমারকে না পাওয়া সান্তোসের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তিনি দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে কোচকে আক্রমণভাগের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় নির্বাচন নতুন করে সাজাতে হতে পারে।
সান্তোসের সামনে লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট অর্জনের চাপ রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ক্লাবটির লিবার্তাদোরেসে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। তাই নেইমারের অনুপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত শাস্তির বিষয় নয়, দলের মৌসুমি লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে নেইমার না থাকলেই সান্তোসের ফল খারাপ হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। দলের বিকল্প খেলোয়াড়, প্রতিপক্ষের শক্তি এবং ম্যাচের পরিস্থিতির ওপরও ফল নির্ভর করবে।
CricBengal বিশ্লেষণ
নেইমারের এই ঘটনা মাঠে খেলোয়াড়দের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে কথা বলা এখন শুধু ব্যক্তিগত আচরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না; সংশ্লিষ্ট নিয়মের আওতায় এর জন্য শাস্তিও হতে পারে।
একই সঙ্গে ঘটনার বিবরণ ও শাস্তির কারণ আলাদা করে বোঝা জরুরি। নেইমারকে প্রোটোকল লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে; প্রকাশিত তথ্য থেকে তাঁকে বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—এমন দাবি করা যায় না।
সান্তোসের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হবে আপিলের সম্ভাবনা, নেইমারের অনুপস্থিতিতে দলের পরিকল্পনা এবং আসন্ন ম্যাচগুলোতে পয়েন্ট অর্জন। নেইমারের জন্যও মাঠের বাইরের বিতর্ক এড়িয়ে ফুটবলে মনোযোগ ফেরানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এক নজরে
- খেলোয়াড়: নেইমার জুনিয়র
- ক্লাব: সান্তোস
- প্রতিপক্ষ: বাহিয়া
- ম্যাচের ফল: ১-১
- শাস্তি: মুখ ঢেকে কথা বলার প্রোটোকল লঙ্ঘনের জন্য দুই ম্যাচ
- অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা: হলুদ কার্ড জমার কারণে একটি ম্যাচ
- মোট অনুপস্থিতি: পরবর্তী তিন ম্যাচ
- আপিলের সুযোগ: রয়েছে
সূত্র: The Daily Star/Reuters-এর প্রতিবেদন | ge.globo-এর প্রতিবেদন

