Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে শাদমান, ২১৩ রানে দিন শেষ বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক | CricBengal.com

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে স্বস্তি ও আক্ষেপের গল্প হয়ে থাকল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিন শেষে ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান করেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন ওপেনার শাদমান ইসলাম। ২১৯ বল মোকাবিলা করে ১০টি চারসহ ৯৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। কিন্তু দিনের খেলা খারাপ আলোর কারণে আগেভাগে শেষ হয়ে যাওয়ায় সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থামতে হয়েছে তাঁকে।

শাদমানের সঙ্গে অপরাজিত রয়েছেন লিটন দাস, যিনি ২৮ বল খেলে ১০ রান করেছেন। বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত রেখেছেন শাদমান। তবে দিনের শেষ সেশনে তাওহিদ হৃদয়ের চোট এবং আলোর স্বল্পতা স্বাগতিকদের জন্য কিছুটা উদ্বেগও তৈরি করেছে।

শাদমানের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুটা স্বাগতিকদের প্রত্যাশামতো হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেডেন সিলস দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেন। মাত্র ৭ রান করে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান।

প্রথম উইকেট হারানোর পর মুমিনুল হককে নিয়ে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন শাদমান। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রান যোগ করেন। এই জুটি বাংলাদেশকে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।

মুমিনুল ৫১ বলে ২৮ রান করেন। জোমেল ওয়ারিকানের বলে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে তাঁর ইনিংস শেষ হয়। এরপর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক শান্ত। তিনি কিছুটা ইতিবাচক ব্যাটিং করলেও ১৯ রানের বেশি করতে পারেননি। ওয়ারিকানের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রোস্টন চেজের রিভিউ সফল হওয়ায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

১১০ রানে তিন উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে শাদমান ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটি।

হৃদয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি, চোটে ছন্দপতন

চতুর্থ উইকেটে শাদমানের সঙ্গে ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন তাওহিদ হৃদয়। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি ৮৪ বলে ৪২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার।

শাদমান ও হৃদয় মিলে চতুর্থ উইকেটে ৮৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এই জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীল করে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উইকেট পাওয়ার গতি কমিয়ে দেয়।

চায়ের বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। তখন শাদমান ৭৯ এবং হৃদয় ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। বিরতির পরও দুজনের ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর এগোতে থাকে।

তবে হৃদয়ের পায়ের পেশিতে টান লাগায় পরিস্থিতি বদলে যায়। রান নেওয়ার সময় অস্বস্তিতে পড়ার পর তিনি মাঠে শুয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর এই চোট বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। হৃদয় পরে আবার ব্যাট করতে পারবেন কি না, তা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

খারাপ আলোয় থামল খেলা, সেঞ্চুরির অপেক্ষায় শাদমান

দিনের শেষ সেশনে শাদমান ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যান। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, শট নির্বাচনে সতর্কতা এবং দীর্ঘ সময় উইকেটে থাকার মানসিকতা। টেস্ট ক্রিকেটে বড় ইনিংস গড়ার জন্য যে মনোযোগ প্রয়োজন, সেটিরই পরিচয় দিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

তবে মিরপুরের আকাশের আলো কমে আসায় আম্পায়ারদের খেলা বন্ধ করতে হয়। প্রথমবার বিরতির পর খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরলেও মাত্র চার ওভার খেলা সম্ভব হয়। এরপর আবারও খারাপ আলোয় দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করা হয়।

ফলে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন শাদমান। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার, আর ছক্কা ছিল না। অন্য প্রান্তে লিটন দাস ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৭৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২১৩/৩।

পিচ ও কন্ডিশন: ব্যাটারদের জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা

প্রথম দিনের খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা নতুন বলে ভালো লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বাংলাদেশের ব্যাটারদের পরীক্ষা নিয়েছেন। পেসারদের মুভমেন্ট এবং কিছুটা অসম বাউন্সের কারণে শুরুর দিকে রান করা সহজ ছিল না। শাদমান অফ স্টাম্পের বাইরের বলের ব্যাপারে সতর্ক থেকে এবং সুযোগ বুঝে রান নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, জোমেল ওয়ারিকান দুই উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন। সিলস নিয়েছেন একটি উইকেট। বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য পরবর্তী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নতুন করে মনোযোগ ধরে রাখা এবং উইকেট হাতে রেখে স্কোর বাড়ানো।

প্রথম দিনের তথ্য থেকে পিচের চূড়ান্ত আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। তবে বাংলাদেশের তিন উইকেট পড়লেও শাদমানের অপরাজিত ইনিংস স্বাগতিকদের একটি শক্ত ভিত দিয়েছে।

CricBengal বিশ্লেষণ: দ্বিতীয় দিনে কী হতে পারে বাংলাদেশের লক্ষ্য?

বাংলাদেশের জন্য প্রথম কাজ হবে শাদমানের ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়া। এরপর লিটন দাসের সঙ্গে তাঁর জুটি যত দীর্ঘ হবে, ততই দল বড় সংগ্রহের দিকে এগোতে পারবে। টেস্টে প্রথম ইনিংসের রান ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণ শুরুতে ভালো চাপ তৈরি করে।

বাংলাদেশের হাতে এখনো সাতটি উইকেট রয়েছে। তাই শুধু শাদমানের সেঞ্চুরির দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; পরবর্তী ব্যাটারদেরও বড় অবদান রাখতে হবে। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানের মতো খেলোয়াড়রা প্রয়োজনে ব্যাট হাতে সময় কাটাতে পারলে ইনিংসের গভীরতা বাড়বে।

অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে দিনের শুরুতেই শাদমান ও লিটনের জুটি ভেঙে দিতে। নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত উইকেট পেলে তারা বাংলাদেশকে মাঝারি স্কোরে আটকে রাখার সুযোগ পাবে।

হৃদয়ের চোটও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আর ব্যাট করতে না পারলে দলের কার্যকর ব্যাটিং গভীরতা কমে যেতে পারে। তাই দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত সতর্ক সূচনা, বড় জুটি এবং প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় মাঠে ব্যস্ত রাখা।

ম্যাচের স্কোর ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

  • ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, প্রথম টেস্ট
  • ভেন্যু: শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর
  • দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর: ২১৩/৩, ৭৪ ওভার
  • শাদমান ইসলাম: ৯৯* (২১৯ বল, ১০ চার)
  • লিটন দাস: ১০* (২৮ বল)
  • মুমিনুল হক: ২৮
  • নাজমুল হোসেন শান্ত: ১৯
  • তাওহিদ হৃদয়: ৪২, চোটের কারণে মাঠ ছেড়েছেন
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে: জোমেল ওয়ারিকান ২ উইকেট, জেডেন সিলস ১ উইকেট
  • দিন শেষ হওয়ার কারণ: খারাপ আলো

বাংলাদেশের সামনে এখন সুযোগ রয়েছে প্রথম দিনের ভালো অবস্থানকে বড় ইনিংসে পরিণত করার। শাদমানের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়া এবং লিটনের সঙ্গে তাঁর জুটি কত দূর যায়, সেটিই দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: ICC, The Daily Star, Jago News

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles