স্পোর্টস ডেস্ক | CricBengal.com
তিনবার বল জালে পাঠিয়েও শেষ পর্যন্ত জয়ের দেখা পেল না এফসি সিনসিনাটি। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্টের সুবাদে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ইন্টার মায়ামি। বুধবার, ২৮ অক্টোবরের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে সিনসিনাটিকে ৫–৩ গোলে হারিয়েছে মায়ামি।
ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় মায়ামি। পরে সিনসিনাটি ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩–২ ব্যবধানে লিড নেয়। কিন্তু শেষ দিকে মায়ামির আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিক দল। মেসির গোল ও সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রথমার্ধে মেসির গোল, সমতায় ফেরে সিনসিনাটি
ম্যাচের ২৪তম মিনিটে গোল করে ইন্টার মায়ামিকে এগিয়ে দেন মেসি। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান সিনসিনাটির আহুকেয়েকে দেনকি। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগে ম্যাচের স্কোর দাঁড়ায় ১–১।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৪৯তম মিনিটে পাভেল বুচার গোলে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিনসিনাটি। পাঁচ মিনিট পর, ৫৫তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে মায়ামিকে আবার সমতায় ফেরান মেসি।
তবে ৬৪তম মিনিটে এভান্দারের গোলে আবারও এগিয়ে যায় সিনসিনাটি। তখন স্কোর ৩–২। এই পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি মায়ামির হাতছাড়া হতে পারে। কিন্তু শেষ দিকে বদলে যায় পুরো চিত্র।
শেষ দিকে মায়ামির দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে মেসির পাস থেকে গোল করেন মাতেও সিলভেত্তি। তাতে ৩–৩ সমতায় ফেরে ইন্টার মায়ামি। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মেসির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এর পাঁচ মিনিট পর, ৮৪তম মিনিটে গোল করে মায়ামিকে ৪–৩ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জার্মান বেরতেরামে। শেষ মুহূর্তে সিনসিনাটির গোলরক্ষক রোমান সেলেন্তানোর আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ৮৯তম মিনিটে সেই গোলের ফলে স্কোর হয় ৫–৩।
সিনসিনাটি তিনটি গোল করলেও শেষ পর্যন্ত মায়ামির আক্রমণ ঠেকাতে পারেনি। পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরে এসে জয় নিশ্চিত করাটা মায়ামির জন্য ছিল বড় প্রাপ্তি।
মেসির পারফরম্যান্স কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মেসি এই ম্যাচে দুটি গোল করেছেন এবং সিলভেত্তির গোলের জন্য অ্যাসিস্ট দিয়েছেন। অর্থাৎ, মায়ামির পাঁচ গোলের মধ্যে তিনটিতে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। এমন পারফরম্যান্স আবারও দেখিয়েছে, গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও মেসি কতটা কার্যকর।
মায়ামির আক্রমণে লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মেসির গোল ও পাস দলকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ করে দেয়।
CricBengal বিশ্লেষণ
এই জয় ইন্টার মায়ামির আক্রমণাত্মক সক্ষমতা তুলে ধরলেও রক্ষণভাগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন রেখে যায়। প্রতিপক্ষের তিনটি গোল হজম করার পরও মায়ামি জিতেছে মূলত শেষ দিকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে। নকআউট বা প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একইভাবে পিছিয়ে পড়লে ঘুরে দাঁড়ানো সব সময় সম্ভব হবে না।
মেসির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স অবশ্য ইতিবাচক দিক। দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট তাঁকে ম্যাচের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে দলের সামগ্রিক সাফল্যের জন্য আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও আরও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
ম্যাচের ফল
- ম্যাচ: এফসি সিনসিনাটি বনাম ইন্টার মায়ামি
- প্রতিযোগিতা: মেজর লিগ সকার (এমএলএস)
- চূড়ান্ত স্কোর: সিনসিনাটি ৩–৫ ইন্টার মায়ামি
- মেসি: ২ গোল, ১ অ্যাসিস্ট
- গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত: ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে সিলভেত্তির সমতাসূচক গোল
সূত্র: Yahoo Sports-এর ম্যাচ স্কোরকার্ড | Inter Miami CF-এর ম্যাচ প্রতিবেদন

