ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২১৪ রানের বড় হারের পর একাদশে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেন্ট জর্জ পার্কে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে উইকেটরক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে রায়ান রিকলটনকে। ফলে মূল একাদশ থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন দলের নিয়মিত ও বিশেষজ্ঞ উইকেটরক্ষক কাইল ভ্যারেন।
ব্যাটিং ব্যর্থতায় বলি ভ্যারেন
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উইকেটের পেছনে ভ্যারেনকে অন্যতম সেরা বিবেচনা করা হলেও, তাঁর ছিটকে যাওয়ার মূল কারণ সাম্প্রতিক সময়ের চরম ব্যাটিং ব্যর্থতা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের শেষ ১৩টি ইনিংসে কোনো ফিফটির দেখা পাননি তিনি। কিংসমিডে প্রথম টেস্টেও দুই ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১৩ ও ১ রান। দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক হলেও অনুশীলনে দলের সঙ্গে পুরো পেশাদার আচরণ দেখিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিং কোচ ক্রুগার ফন উইক ভ্যারেনের প্রশংসা করে বলেন, “দল থেকে বাদ পড়া সবসময়ই কঠিন ও বেদনাদায়ক। তবে কাইল পরিস্থিতি দারুণভাবে সামলেছে। আজকের অনুশীলনে সে-ই সবার আগে অন্যকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে।”
টেস্টে প্রথমবার কিপিংয়ের দায়িত্বে রিকলটন
১৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে নামতে যাচ্ছেন রায়ান রিকলটন। সাদা বলের ক্রিকেটে ১৮৩ ম্যাচে এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৭ ম্যাচে কিপিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও টেস্টে এতদিন তিনি কেবল ব্যাটার হিসেবেই খেলেছেন। দীর্ঘ আড়াই বছর পর সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে বোল্যান্ডের বিপক্ষে গঁটেংয়ের হয়ে একবারই মাত্র উইকেটকিপিং করেছেন তিনি।
রিকলটনের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফিল্ডিং কোচ ফন উইক বলেন, “ম্যাচে কিপিং না করলেও সে সবসময় অনুশীলনের প্রথম বাসেই মাঠে আসে এবং নিজের কাজ করে যায়। উইকেটের পেছনে অতিরিক্ত এই দায়িত্ব রিকলটনকে খেলায় আরও বেশি সম্পৃক্ত রাখবে, যা তাঁর সামগ্রিক পারফরম্যান্সের জন্যই ইতিবাচক হবে।”
সেন্ট জর্জ পার্কের ধীরগতির পিচে স্পিনের মুখে কিপিং কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে—এমন প্রশ্নে সাবেক এই কিউই উইকেটরক্ষক বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বল স্পিনের চেয়ে বাউন্স করে বেশি, তাই উপমহাদেশের মতো বড় পরীক্ষার মুখে তাকে পড়তে হবে না।” তাছাড়া ম্যাচের প্রথম দু’দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় স্পিন খুব বড় প্রভাব ফেলতে নাও পারে।
ব্যাটিং পজিশনেও আসছে পরিবর্তন
উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি রিকলটনের ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ক্যারিয়ারের ২৯টি টেস্ট ইনিংসের মধ্যে শেষ ১৩টিতেই তিনি ওপেন করেছেন, যার মধ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ২৫৯ রানের ইনিংসটিও রয়েছে। তবে এরপর থেকে খেলা ১১টি ইনিংসে তিনি ফিফটি পেয়েছেন মাত্র একটিতে।
ত্রিস্তান স্টাবসের পরিবর্তে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ম্যাথিউ ব্রিটজকে ইনিংস উদ্বোধনে দেখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে রিকলটনকে হয়তো মিডল অর্ডারে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। পুরোদস্তুর ব্যাটার থেকে ‘উইকেটকিপার-ব্যাটার’ হিসেবে নতুন ভূমিকায় নামার আগে অনুশীলনে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা কিপিং এবং ৪০ মিনিট ব্যাটিং সেশন পার করে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন এই প্রোটিয়া তারকা।

