Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি বাংলাদেশ, দেখুন দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক | CricBengal.com

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের হতাশা পেছনে ফেলে ঘরের মাঠে নতুন করে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশের জন্য সিরিজের প্রস্তুতিটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রত্যাশিত ফল পায়নি দল। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও জয় পাওয়া হয়নি। এর মধ্যে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও দলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশ সফরে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের সাদা বলের ক্রিকেটাররা ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে, আর টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা চেন্নাইয়ে প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছে। দুই দলের প্রস্তুতি ও সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় সিরিজের শুরুতেই বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে।

অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ওপর বড় দায়িত্ব

বাংলাদেশের টেস্ট দলের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। তাঁদের সঙ্গে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে মুশফিকুর রহিম প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে পারেননি। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রান করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলক অর্জনের পরের ছয় ম্যাচে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৪.৭। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আর ১১৮ রান করতে পারলে এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টেস্টে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।

মুশফিকের পাশাপাশি মুমিনুল হকের অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ফরম্যাটে চাপ সামলানো, ইনিংস বড় করা এবং প্রতিপক্ষের বোলারদের ক্লান্ত করে দেওয়ার মতো কাজগুলোতে তাঁদের ভূমিকা বড় হতে পারে।

তবে শুধু অভিজ্ঞদের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। টপ অর্ডারকে শুরু থেকেই উইকেট বাঁচিয়ে খেলতে হবে। বড় সংগ্রহ গড়তে হলে ওপেনারদের ভালো সূচনা এবং মিডল অর্ডারের ধারাবাহিকতা জরুরি।

মুশফিকুর রহিম বনাম কেমার রোচ: নজর থাকবে পুরোনো দ্বৈরথে

সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে মুশফিকুর রহিম ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ পেসার কেমার রোচের লড়াই। ২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা। দীর্ঘ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রোচ মুশফিককে তিনবার আউট করেছেন।

রোচ চলতি বছরও কার্যকর বোলিং করেছেন। ২২.৪ গড়ে তাঁর শিকার ১০ উইকেট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ইনিংসে ৫১ রানে চার উইকেট নেওয়ার পারফরম্যান্সও রয়েছে তাঁর।

মিরপুরে নতুন বলে রোচের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। মুশফিক যদি তাঁর বিপক্ষে শুরুটা ভালো করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত শক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

তাসকিনের প্রত্যাবর্তন, একাদশে জায়গা নিয়ে লড়াই

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদের প্রত্যাবর্তন বাড়তি বিকল্প তৈরি করেছে। একই সঙ্গে শরিফুল ইসলামও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কে খেলবেন, তা নির্ভর করতে পারে উইকেটের চরিত্র ও দলের বোলিং পরিকল্পনার ওপর।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের টেস্টে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেন পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলেছেন। এবার তাসকিন বা শরিফুলের অন্তর্ভুক্তি হলে বোলিংয়ের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে নতুন বলে উইকেট নেওয়া এবং দিনের শেষ দিকে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ক্ষেত্রে পেসারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবে বাংলাদেশের জন্য লিটন দাসের ফিটনেসও বড় বিষয়। চোটের কারণে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি। উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে লিটন একাদশে থাকলে মিডল অর্ডার ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য শক্তি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে রস্টন চেজ, তেজনারাইন চন্দরপল, কাভেম হজ ও আমির জাঙ্গুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও দলকে ভারসাম্য দিতে পারবেন।

স্পিন বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন সহ-অধিনায়ক জোমেল ওয়ারিক্যান। পেস আক্রমণে থাকছেন কেমার রোচ, জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ। বাংলাদেশের কন্ডিশনে তাঁদের পারফরম্যান্স ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচিং স্টাফও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট। ব্যাটিং পরামর্শক ফ্লয়েড রেইফার চেন্নাইয়ের প্রস্তুতি ক্যাম্পকে দশের মধ্যে দশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই প্রস্তুতি সফরকারীদের উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

মিরপুরের উইকেট ও বৃষ্টির পূর্বাভাস

মিরপুরের উইকেট নিয়ে এবার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি জানিয়েছেন, শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বর্তমান উইকেট গত বছরের ওয়ানডে সিরিজের সময়কার পিচের মতো নয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের উইকেটে উন্নতি হয়েছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এতে বাংলাদেশের স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদের জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ম্যাচের প্রথম তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হলে খেলার সময় কমে যেতে পারে, যা দুই দলের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।

এমন পরিস্থিতিতে টস, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং এবং বোলারদের সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশকে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

পরিসংখ্যানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মবিশ্বাস

২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট সিরিজ হারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার টেস্ট সিরিজ জিতেছে—২০১৮ সালে। এই পরিসংখ্যান সফরকারীদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।

তবে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপ ও স্পিন আক্রমণকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নিজেদের কন্ডিশন কাজে লাগাতে পারলে স্বাগতিকদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ উপহার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সূচি ও সম্ভাব্য একাদশ

প্রথম টেস্ট শুরু হবে ২৮ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ম্যাচটি চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: শাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ/শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশ: তেজনারাইন চন্দরপল, ব্র্যান্ডন কিং, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু, রস্টন চেজ (অধিনায়ক), জাস্টিন গ্রিভস, জশুয়া ডা সিলভা (উইকেটকিপার), কেমার রোচ, শামার জোসেফ, জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেডেন সিলস।

এগুলো সংবাদ প্রকাশের সময় পাওয়া সম্ভাব্য একাদশ; টসের আগে চূড়ান্ত একাদশ নিশ্চিত নয়।

ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বাংলাদেশের জন্য হতাশার হলেও ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের অভিজ্ঞতা, শান্তর নেতৃত্ব এবং তাসকিনসহ পেসারদের প্রত্যাবর্তন দলকে সাহায্য করতে পারে।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রস্তুতি ও সাম্প্রতিক আত্মবিশ্বাসকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে ব্যাটিংয়ে ধৈর্য, বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রথম টেস্টে ভালো শুরু করতে পারলে পুরো সিরিজে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে টাইগারদের সামনে।

তথ্যসূত্র: ESPNcricinfo।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles