CricBengal.com | আন্তর্জাতিক ক্রিকেট
একসময় মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি হেরে বসতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫৪ রানেই হারিয়ে ফেলেছিল ৯ উইকেট। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ৮৮ রান। কিন্তু শেষ উইকেটে শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য লড়াই বদলে দিল ম্যাচের চিত্র। শাদাবের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে এক উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
রোববার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। জবাবে ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
শাদাবের ব্যাটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একাই লড়াই চালিয়ে যান শাদাব খান। ৯৬ বলে ১১৩ রানে অপরাজিত থাকেন এই অলরাউন্ডার। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।
একপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও শাদাব লক্ষ্য থেকে চোখ সরাননি। শেষ ব্যাটার হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান তিনি।
দশম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি ওয়ানডে ক্রিকেটে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ দশম উইকেট জুটির নতুন রেকর্ড গড়েছে। হারিস রউফ ১৯ বলে অপরাজিত সাত রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ডিআরএসে বেঁচে গিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন শাদাব
ম্যাচের শেষদিকে নাটকীয় মুহূর্তেরও জন্ম হয়। শাদাব ৯৭ রানে থাকতে গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউ আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। প্রথমে তাঁকে আউট মনে হলেও রিভিউ নেওয়ার পর দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছিল।
জীবন ফিরে পেয়ে দ্রুত রান তোলেন শাদাব। পরে নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে পাকিস্তানকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত হারিস রউফের ব্যাট থেকে আসে জয়সূচক বাউন্ডারি।
ইংল্যান্ডের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি নয়, ডাবল চাপ!
এর আগে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন বেন ডাকেট। তাঁর ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংলিশরা। স্যাম কারেন করেন ৪২ রান, আর গাস অ্যাটকিনসন অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন।
তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সব আলো কেড়ে নেন শাদাব খান। ১৫৪ রানে নবম উইকেট হারানোর পরও যে ম্যাচ জেতা সম্ভব, লাহোরে তা দেখিয়ে দিল পাকিস্তান।
তথ্যসূত্র: ICC, Reuters ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত ম্যাচ-প্রতিবেদন।

