স্পোর্টস ডেস্ক | CricBengal.com
মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের ২১৩/৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ২৭২ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা। মাত্র ৫৯ রানের মধ্যে শেষ সাতটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল কারিগর ছিলেন ওয়ারিকান। তিনি ৫৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি।
শতক করেও দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারলেন না শাদমান
প্রথম দিনের শেষে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার শাদমান ইসলাম। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই জশুয়া বিশপের বলে দুই রান নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ২২১ বলের মধ্যে তিন অঙ্কে পৌঁছে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন শাদমান।
তবে শতক পাওয়ার পর বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি তিনি। ২৩৪ বলে ১০৫ রান করে বিশপের বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার।
শাদমানের বিদায়ের পর দ্রুতই ফিরে যান তাওহিদ হৃদয়। আগের দিন পেশিতে টান লাগায় মাঠ ছেড়ে যাওয়া হৃদয় ৪২ রান নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে ফিরলেও আর রান যোগ করতে পারেননি। বিশপের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ফলে ২২১ রানেই পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
মাঝের সারির ব্যর্থতায় ভাঙে প্রতিরোধ
শাদমান ও হৃদয়ের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস সামলানোর দায় পড়ে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়ে সাময়িকভাবে দলকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু মিরাজকে বোল্ড করে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেন ওয়ারিকান। ১৫ রান করে ফেরেন মিরাজ। এরপর বাংলাদেশের লেজের ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা।
নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদকে আউট করেন শামার জোসেফ। পরে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ওয়ারিকান। বাংলাদেশের শেষ পাঁচটি উইকেট পড়ে মাত্র ১৯ রানে।
অন্য প্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যান লিটন দাস। তিনি ৮৮ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
ওয়ারিকানের সঙ্গে বিশপ ও জোসেফের অবদান
ওয়ারিকানের ৫/৫৩ বোলিং পরিসংখ্যান বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফ দুটি করে উইকেট নিয়ে তাঁকে ভালো সমর্থন দেন। বিশপের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষ, কারণ তিনি নিজের টেস্ট অভিষেকেই শাদমান ও হৃদয়ের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন।
বাংলাদেশের পক্ষে শাদমানের ১০৫ রান ছিল সর্বোচ্চ। হৃদয় করেন ৪২ এবং লিটন অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে। মুমিনুল হক ২৮, শান্ত ১৯ ও মিরাজ ১৫ রান করেন।
ম্যাচের পরিস্থিতি কী বলছে?
প্রথম দিন ২১৩/৩ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের সকালে দ্রুত উইকেট হারানোয় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। ২৭২ রান এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের জন্য লক্ষ্য, আর বাংলাদেশের বোলারদের কাজ হবে প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রেখে ম্যাচে ফিরে আসা।
CricBengal বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, ভালো অবস্থান থেকে ইনিংসকে দীর্ঘায়িত করতে না পারা। শাদমানের শতক ও হৃদয়ের ৪২ রানের পরও শেষ সাত উইকেট মাত্র ৫৯ রানে পড়ে যাওয়া দেখায় যে ব্যাটিংয়ের শেষ অংশে আরও ধৈর্য ও জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল। তবে টেস্ট ম্যাচে ২৭২ রান কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশের বোলাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে কীভাবে শুরু করেন তার ওপর।
সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS), প্রথম আলো ইংরেজি
প্রকাশক: CricBengal.com

